দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইন চেষ্টার ঘটনায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) ও মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অধীনে সব সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে (বিওপি) জনবল বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন রোধে বিজিবির সদস্যদের পাশাপাশি আনসার ভিডিপির সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে সাথে নিয়ে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে ও সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পারাপার রোধে মাইকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে।
৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের ১৭টি বিওপিতে বিজিবি সদস্যদের নিয়মিত টহল চলছে। আগের তুলনায় জনবল বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির সাথে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরাও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নও সীমান্ত এলাকায় কাজ করছে। আমাদের টহল টিম নিয়মিত সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নওগাঁ (১৬ বিজিবির) আওতাধীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি বিওপি সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এতে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ ২৮ জন শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।
এ ঘটনায় দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর শনিবার (৬ জুন) বিএসএফ তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়।
মো. আশিক আলী / এনটি
