বিজ্ঞাপন

নকলায় মোমবাতির আলোয় হাসপাতালে জরুরি সেবা, ডিসির হস্তক্ষেপে সমাধান

নকলায় মোমবাতির আলোয় হাসপাতালে জরুরি সেবা, ডিসির হস্তক্ষেপে সমাধান

শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবাও মোমবাতির আলোয় পরিচালনা করতে হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অফিস টাইমে ফোন দেওয়ার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে মধ্যরাতে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা হয়। পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (আইপিএস/জেনারেটর) সচল করার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত সুবিধার মধ্যেও সেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত আলো ও বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী জসিম বলেন, আমরা চিকিৎসা নিতে নকলা হাসপাতালে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। অনেক সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই, বাথরুমে পানিও নেই। অন্ধকারে বসে থাকতে হচ্ছে, দেখার মতো কেউ নেই।

আরেক রোগী বলেন, হাসপাতালে খাবারের ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ থাকে না। চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। অনেকক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ নেই।

হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. সাগর সাহা বলেন, আমাদের হাসপাতালে আজ প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। মোমবাতি জ্বালিয়ে জরুরি বিভাগে রোগীদের সাপোর্ট দিতে হয়েছে। এখনও ইমারজেন্সিতে বিদ্যুৎ নেই। তিনতলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ খুবই দুর্বল। ভোল্টেজ ঠিক নেই। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগী বেডের পাশাপাশি মেঝেতেও অবস্থান করছেন।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, এটা হয়তো লোডশেডিংয়ের কারণে হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আইপিএস ও জেনারেটর দুটোই নষ্ট। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অফিস টাইমে যোগাযোগ করতে বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে শেরপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, নকলা হাসপাতালের নিজস্ব লাইনে সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক আমাদের জানিয়েছেন। দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ চলছে।

শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জেনারেটর ঠিক আছে কিনা তাও নিশ্চিত নই। বিষয়টি দেখা হচ্ছে, খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

পরে রাতে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে সিভিল সার্জন ও পিডিবি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেনারেটর ও আইপিএস সংক্রান্ত সমস্যাও আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ না হয়।

জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে তিন ঘন্টা পর রাত ১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরো পুরি স্বাভাবিক হয়েছে। 

মো.নাইমুর রহমান তালুকদার/এনটি

বিজ্ঞাপন