বিজ্ঞাপন

নওগাঁ সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

নওগাঁ সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে ভারত থেকে অবৈধভাবে নওগাঁ সীমান্তে প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় রাত্রিকালীন টহলে বাঁশি, টর্চ লাইট, নাইট ভিশন গগলস এবং বাইনোকুলারসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে পুশইনের প্রচেষ্টার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষে বিজিবি দিবা/রাত্রিকালীন সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সব প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সদর দপ্তর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় রাত্রিকালীন টহলে বাঁশি, টর্চ লাইট, নাইট ভিশন গগলস এবং বাইনোকুলারসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জামাদি ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে পুশ ইনের সম্ভাব্য স্থান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কোনো ধরনের মানবপাচার, অনুপ্রবেশ ও পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন ১৪ বিজিবি থেকে জানানো হয়, প্রতিপক্ষ সীমান্তরক্ষী কর্তৃক, পুশইন, মানবপাচার, অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষে প্রতিপক্ষ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমন্বয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুশইন-সংক্রান্ত যে কোনো ঘটনার তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় প্রতিপক্ষ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখার স্বার্থে বিজিবি সর্বদা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং প্রচলিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া, বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, কোনো অপরিচিত ব্যক্তির চলাচল, সন্দেহজনক কার্যক্রম অথবা পুশইনের সম্ভাব্য তথ্য পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করবেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সবাইকে স্ব স্ব স্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, পুশইন কিংবা সার্বভৌমত্ববিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অর্পিত করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

মনিরুল ইসলাম শামীম/এএমকে