ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার ১১ জন নারী-পুরুষ ও শিশুর ভাগ্য এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো হয়নি কোনো সমাধান, আর এতেই সীমান্ত এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
রোববার (৭ জুন) ৫টা পর্যন্ত ওই ১১ জন দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। আটকে পড়াদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং একটি শিশু শারীরিক প্রতিবন্ধী।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস-সংলগ্ন এলাকায় ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা দুই দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে শূন্যরেখা-সংলগ্ন প্রায় ৫০ গজ দূরত্বে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জনকে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের কয়েকটি দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পুলিশের একটি গাড়িতে করে তাদের ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে এক দিন রাখার পর ৬ জুন রাতে সীমান্ত এলাকায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
শূন্যরেখার জমির আইলে বসে থাকা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার বলে, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় থাকতাম। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়েছে। পরে শুক্রবার ভোরে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে রেখে যায়। আমি শুধু পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফিরতে চাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খোলা আকাশের নিচে অবস্থানরত এসব মানুষের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। মানবিক কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুটির স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে এই অবৈধ পুশইনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যদি তাদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে হস্তান্তর করা হয়, তবেই আমরা নিয়ম মেনে গ্রহণ করবো। অন্যথায় কোনোভাবেই অবৈধ উপায়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে
