গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মদপান করে সোহাগ মিয়া (৩৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার ভাইসহ আরও দুইজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অপরজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন আহতদের স্বজন এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আশিক ইকবাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামে একসঙ্গে মদপান করেন তারা। অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনজনকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সোহাগ ও মজিবরের অবস্থা গুরুতর হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় রেফার্ড করেন। পরে সৈকতের অবস্থারও অবনতি হলে তিনজনকে ভোররাতে শজিমেকে নেওয়ার পথে সকাল ৭টার দিকে সোহাগের মৃত্যু হয়। অপর দুজনকে শজিমেকে ভর্তি করা হয়।
মারা যাওয়া সোহাগ তরফকামাল গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। অসুস্থরা হলেন- সৈকত ও মজিবর রহমান। সোহাগ ও সৈকত আপন দুই ভাই। মজিবর রহমান একই গ্রামের কষ্টু শেখের ছেলে।
মজিবরের মামাতো ভাই সারোয়ার ঢাকা পোস্টকে জানান, সৈকতকে শজিমেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে মজিবরের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় বিকেলে আইসিইউ প্রয়োজন পড়ে। শজিমেকে আইসিইউ সংকট থাকায় বিকেল ৫টায় তাকে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও আইসিইউ না পেয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। মজিবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তালেব প্রধান ঢাকা পোস্টকে বলেন, মারা যাওয়া সোহাগ ও অসুস্থ সৈকত আপন দুই ভাই। অসুস্থ মজিবর তাদের প্রতিবেশী।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মো. আশিক ইকবাল কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজনের শারীরিক অবস্থা খারাপ বিবেচনায় চিকিৎসা দেওয়ার পরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছিল। কিন্তু তারা রাত ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালেই ছিলেন। তারা অ্যালকোহল (মদ) পান করেছিলেন।
মাসুম বিল্লাহ/আরএআর
