বিজ্ঞাপন

দুই বছর পর বিদ্যালয়ে ফিরতেই প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা

দুই বছর পর বিদ্যালয়ে ফিরতেই প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারকে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি।

রোববার (৭ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের গেটে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সুজিৎ কর্মকার। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ওই পক্ষ তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে সময় কাটাচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসেন সুজিৎ কর্মকার। ফটকের সামনে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন এবং মারধর শুরু করেন। পরে জোরপূর্বক তাকে আবার অটোরিকশায় তুলে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আহত অবস্থায় সেখান থেকে তিনি সরে যেতে সক্ষম হন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, সুজিৎ কর্মকার নামে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কয়েকটি স্থান ফুলে গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বলেন, ২০২৪ সালের পর থেকে একটি চক্র আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। নিরাপত্তার অভাবে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। আজ দায়িত্ব পালনের জন্য বিদ্যালয়ে যেতেই পরিকল্পিতভাবে গেটে হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একজন প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। তবে, এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, স্থানীয় কিছু জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে আসতে পারেননি। আজ বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় তাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়ন দাস/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন