বিজ্ঞাপন

লাল কেঁচো দিয়ে জৈবসার উৎপাদনে সফল রাজারহাটের কৃষক সাজু মন্ডল

লাল কেঁচো দিয়ে জৈবসার উৎপাদনে সফল রাজারহাটের কৃষক সাজু মন্ডল

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার এক কৃষক লাল কেঁচো ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব জৈবসার উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে নিজ উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে তা নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহার করছেন।

সফল এই কৃষকের নাম সাজু মন্ডল (৪৫)। তিনি উপজেলার রাজারহাট সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া মৌজার মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈবসারের ব্যবহার বাড়াতে প্রায় চার বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে লাল কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদন শুরু করেন সাজু মন্ডল। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি মানসম্মত জৈবসার উৎপাদনে সফল হন।

কৃষক সাজু মন্ডল বলেন, লাল কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত জৈবসার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের উৎপাদন ভালো রাখতে সহায়তা করে। বর্তমানে আমি উৎপাদিত সার নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহার করছি এবং এর সুফলও পেয়েছি। চলতি বছরে প্রায় ১২ মণ জৈবসার উৎপাদনের আশা করছি। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে জৈবসার উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে পারব। এতে বাজারে সার বিক্রি করে সংসারের আয়ও বাড়বে।

স্থানীয় কৃষক আলামিন মিয়া বলেন, আমি এই সার ব্যবহার করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে আমিও এই সার উৎপাদন করে নিজের জমিতে ব্যবহার করতে চাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এই সার উৎপাদনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেঁচো জীবন্ত প্রাণী হওয়ায় তাদের বেঁচে থাকা, বংশবৃদ্ধি এবং খাদ্য গ্রহণের গতি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপর নির্ভরশীল। ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ওই কৃষককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ