বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ জটিলতা, গ্রাহকদের ভোগান্তি

সাতক্ষীরায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ জটিলতা, গ্রাহকদের ভোগান্তি

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পারায় শত শত গ্রাহককে বাধ্য হয়ে সরাসরি অফিসে এসে বিদ্যুৎ রিচার্জ করতে হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে, আবার কেউ টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্কদের ভিড় লক্ষ করা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে রিচার্জে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে উপায় না পেয়ে তাদের ওজোপাডিকোর অফিসে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, সকাল থেকে বিদ্যুৎ রিচার্জের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন রিচার্জ করব আর কখন মাঠে কাজ করতে যাব বুঝতে পারছি না। এত মানুষের ভিড়ে কাউন্টার মাত্র একটি। এই গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধান চাই।

হাফিজুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কাজের জন্য ফোন আসছে, যেতে পারছি না। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। মিটারে ১৮০ সংখ্যার টোকেন নম্বর দিতে হয়, একটু ভুল হলেই নতুন ঝামেলায় পড়তে হয়।

গ্রাহক আশিকুর রহমান বলেন, পায়ে সমস্যার কারণে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারি না। তারপরও সকাল থেকে লাইনে আছি। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা পাচ্ছে, পায়ে ব্যথা করছে। শারীরিক সমস্যা নিয়েও বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়েছে।

কলেজশিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সকাল ৯টায় এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। কাউন্টার বাড়ানো হলে কিছুটা ভোগান্তি কমতো। এই গরমে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কষ্ট পাচ্ছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সেবা সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে তা নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। মিটার লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জ জটিলতা, ব্যাটারির সমস্যা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেকের ভাষায়, প্রিপেইড মিটার এখন তাদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি। প্রয়োজনে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। কারিগরি সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তবে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু এবং কাউন্টার না বাড়ালে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

ইব্রাহিম খলিল/আরএআর

বিজ্ঞাপন