বিজ্ঞাপন

মোমবাতির আলোয় সেবা দেওয়া সেই হাসপাতালে আইপিএস দিলেন এমপি

মোমবাতির আলোয় সেবা দেওয়া সেই হাসপাতালে আইপিএস দিলেন এমপি

শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অবশেষে ওই হাসপাতালের জন্য একটি আইপিএসের (বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা) ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকট চলছিল। অনেক সময় মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে হয়েছে চিকিৎসকদের। বিশেষ করে গত ৬ জুন দিবাগত রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও স্বজনরা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের হস্তক্ষেপে ওইদিন রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নকলা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মূলত নিজস্ব বৈদ্যুতিক লাইনের সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হচ্ছিল। লোডশেডিংয়ের তুলনায় অভ্যন্তরীণ লাইনের ত্রুটিই বড় কারণ ছিল। এ ছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর ও আইপিএস বিকল থাকায় বিকল্প কোনো ব্যবস্থা চালু ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তোলে।

ঢাকা পোস্টে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি তার সরকারি বরাদ্দ থেকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য একটি আইপিএসের ব্যবস্থা করেন।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাইমা পিংকি অর্চি বলেন, আমাদের হাসপাতালে বিদ্যুতের সমস্যা অনেকদিন ধরেই ছিল। বিকল্প হিসেবে যে আইপিএস ও জেনারেটর ছিল, সেগুলো পুরনো হয়ে যাওয়ায় সচল ছিল না। এজন্য বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীর কাছে দুটি আইপিএসের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তিনি আপাতত একটি আইপিএসের ব্যবস্থা করেছেন।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য আইপিএস বরাদ্দ দিয়েছেন, এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইপিএস দেওয়ায় আশা করা যায় ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকট আর থাকবে না।

এ বিষয়ে শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি আমি দেখেছি। আমার সরকারি বরাদ্দ থেকে আপাতত একটি আইপিএসের ব্যবস্থা করেছি। জেনারেটর স্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে আইপিএস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ৬ জুন রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে হয়েছিল। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন আইপিএস সংযোজনের ফলে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎজনিত সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং রোগীরা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পাবেন।

মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/এএমকে