কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এক শিশু ও বাসচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন যাত্রী।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া এলাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা শরীফ এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে এভারগ্রীন বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীফ এন্টারপ্রাইজ বাসটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে সড়কে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় শরীফ এন্টারপ্রাইজের চালক মোহাম্মদ আলী (২৫) এবং যাত্রী ইয়াহিয়া (১) গুরুতর আহত হন। পরে তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহত মোহাম্মদ আলী উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পাগলির বিল এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে ও শিশু ইয়াহিয়া বান্দরবানের লামা উপজেলার বানিয়াছড়া কেদারবান এলাকার মঞ্জুর আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম, নাইম, মাবুদ আব্দুল, জোসনা আক্তার, জনি, মোহাম্মদ আলী, ইমা, ফাতেমা ও রফিকুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ থেকে ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ইসমাইল, সিফাতসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, দুর্ঘটনার পর বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এএমকে
