ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গরুর মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কনেপক্ষ এবং তাদের আমন্ত্রিত গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দি গ্রামে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দি গ্রামে লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় নিজ পক্ষের আমন্ত্রিত গ্রামবাসীর কয়েকজন মাংস কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল পরস্পরের বিরুদ্ধে নিক্ষেপ করে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন আরিফ মিয়া, শহীদ মাতুব্বর, সোহরাব মাতুব্বর এবং মমতাজ বেগম। অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর বলেন, “বিয়েবাড়িতে মাংস কম দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে মেয়েপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের কোনো ঝামেলা হয়নি। যাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, তারা মেয়েপক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। সংঘর্ষের পর বরসহ বরপক্ষের লোকজন মেয়ের বাড়িতে আসেন এবং বিয়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।”
কনের বাবা লাভলু শেখ বলেন, “আমার মেয়ের বিয়েটা ছিল আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের একটি দিন। কিন্তু স্থানীয় গ্রাম্য দলাদলির বলি হতে হলো আমাদের।”
তিনি বলেন, “গ্রামের মধ্যে আমরা যাদের দাওয়াত দিয়েছিলাম, তারা শুধু মাংসের বিষয় নিয়ে ঝামেলা করেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করেছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মেয়েপক্ষের বাড়িতে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তাদের আমন্ত্রিত কিছু অতিথিকে মাংস কম দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চারজন আহত ব্যক্তি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।”
তিনি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।
জহির হোসেন/এসএমডব্লিউ
