রাজশাহীর বাঘায় ১৮ মে দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা স্বপন বেপারীকে (৪০) মাথায় গুলি করে তুলে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২২ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ হওয়া স্বপনের। স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারীর দাবি- ‘স্বপন বেঁচে নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
বাঘা উপজেলার চক রাজাপুর ইউনিয়নের চর কালিদাসখালি এলাকার ওই রাতের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন নিচপলাসীর শুকুর আলীর ছেলে জিয়াউল হক (৩৫)। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। ঘটনার পরে ২০ মে স্বপন বেপারীর বাবা সিদ্দিক বেপারী বাদী হয়ে বাঘা থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে, ২২ দিনেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারের দাবি- স্বপন মুদিদোকানি। তবে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর পরিবার বলছে, তাকে কোনো বাহিনী (পদ্মা নদীতে সন্ত্রাস চালানো বাহিনী) হত্যা করেনি। এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্বপনের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে তার বাবা সিদ্দিক বেপারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। এসময় সিদ্দিক বেপারী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার (বাবা) সামনে গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে এ বিষয়ে জানি না। তবে ছেলে (স্বপন) বেঁচে নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের লাশটা পেলাম না দেখতে।
সিদ্দিক বেপারী আক্ষেপ করে বলেন, আমার দুঃখ ছেলের লাশ পাইলাম (পেলাম) না। মারা গেছে সে (ছেলে)। আমি তাও বলেছিলাম, আমার ছেলেটার লাশটা দেওয়া হোক। আমি কোনো মামলাই করব না, আমি ছেলেকে দেখে দাফন করে দেব। কিন্তু লাশ পেলাম না। ছেলের বিষয়ে কোনো খোঁজখবর কিছুই পাইনি। ওই (ছেলে) মারা গেছে। মরার একটা সার্টিফিকেট দেয় না? গোরস্থানের সার্টিফিকেট দেয় না? কোনো কিছুই দেয় না কেউ। তারা বলে, মারা যাওয়ার প্রমাণ নেই তাই। এ নিয়ে লোকের সাথে কি মারামারি করব? না তারা (দুর্বৃত্তরা) আমার সামনে ছেলেকে গুলি করেছে।
তিনি বলেন, আমার ছেলে কিছু ঋণ করছিল। আমি বয়স্ক মানুষ, কিভাবে কিস্তি দেব। তিনটা কিস্তি করছিল সে, দুইটা কিস্তি শোধ হয়েছে। একটা কিস্তি শোধ হয়নি, একটা ছয়টা কিস্তি পাবে। ওরা বলছিল যে আপনার ছেলে যদি মারা যায়, তাহলে একটা পরিচয় (প্রত্যয়নপত্র) এনে দেন। তাহলে কিস্তিটা আর দিতে হবে না। এখন এটা কেউ দেয় না, কবরস্থান কমিটি দেয় না। এ নিয়ে আমি পাগলের মতো খালি ঘুরছি। ৬০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়ে ছিল সে। এখন ছয়টা কিস্তি বাকি আছে পরিশোধ হতে। তার প্রতি কিস্তি ৬ হাজার টাকা। স্বপন যাদের থেকে টাকা পেত, তারা স্বীকার করে না। দুই জন স্বীকার করেছে, একজনের থেকে ২০ হাজার ও একজনের থেকে ২ হাজার টাকা পবে। তারা টাকা দেয়নি।
আমার দাবি হলো, লাশটা যদি পাইতাম (পেতাম) ছেলের। তাকে কিন্তু বাহিনীরা মারে নাই। ওরা যেটা বলতেছে সাজানো নাটক। যে বাহিনীরা মেরে গেছে। কারা মারলো আমার ছেলেটাকে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনো ব্যবস্থাই নাই, কেউ উদ্যোগও নেই না। অনেকে বলে তোমার ছেলে মারা যায়নি, চিকিৎসা নিচ্ছে। তাহলে আমার ছেলে এতোদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে? এটা মিথ্যা কথা- আমি তো বুঝি। তারা সান্ত্বনা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, স্বপনকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
শাহিনুল আশিকএসএইচএ
