কুষ্টিয়ার খোকসায় ঝড়ে তিনটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের সন্তোষপুর ১, গোপকগ্রাম ২ ও গোপকগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। এরপর শুরু হয় ঝড়ো বাতাস সঙ্গে বজ্রপাত। একপর্যায়ে শুরু হয় ঝড়। প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিটের ঝড়ে সব তছনছ হয়ে যায়। গ্রামের অসংখ্য ছোট-বড় গাছপালা উপড়ে গেছে। তিনটি গ্রামের কয়েকশত ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গোপক গ্রামের দিনমজুর মধু শেখ বলেন, নদী থেকে কালো ধোঁয়ার মতো বাতাস পাক মারতে মারতে আসে। এরপর বজ্রপাত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় দেড় মিনিটের মধ্যেই গাছ উপড়ে বাড়িঘর ভেঙে শেষ হয়ে গেছে। কমবেশি সব বাড়িতেই ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় চায়না খাতুন বলেন, ঝড়ে বড়িঘরের অনেক কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার থেকেও সব শেষ। স্বামী থেকেও নেই। দুইটি বাচ্চা আছে। এখন টাকাও নেই যে সব ঠিক করবো। সরকার যদি একটু আমাদের সহযোগিতা করতো তাহলে বাঁচতাম।
গোপকগ্রাম স্কুলপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে জাহেদ বলেন, ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে গ্রামের ঘরবাড়ি। গোপকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের শতবর্ষী বটগাছ উপড়ে পড়ে গেছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষের।
গোপকগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আলিম সরদার বলেন, ঝড়ে তিনটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মুহূর্তেই কয়েকশ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। গাছপালা উপড়ে গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইউএনও স্যারকে সব কিছু জানানো হয়েছে।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঝড়ে কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা শুনে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। গাছ ভেঙে দুটি বাড়ির ওপর পড়েছে। তাঁতের মিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ ভেঙে স্কুলের দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে বলেছি। তারা জমা দিলে ক্ষতিপূরণের জন্য সহায়তা করা হবে।
রবিউল আলম ইভান/এএমকে
