বিজ্ঞাপন

মালেক চাচার সমুসা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্রেতারা

মালেক চাচার সমুসা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্রেতারা

ভিন্ন স্বাদ আর ভেজালমুক্ত তেলে ভাজা মালেক চাচার হাতে বানানো সমুসা। যে একবার খেয়েছে, সে আবারও খেতে এসেছে। বন্ধু-বান্ধবকে সমুচার স্বাদের কথা বলেছে। তারাও ছুটে এসেছে। এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পছন্দের শীর্ষে রয়েছে মালেক চাচার সমুচা। তার হাতে যেন জাদু রয়েছে। এখনো অনেক ক্রেতা রয়েছেন তার, যারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত তার হাতের সমুসা খেয়ে আসছেন।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নতুন আশুতিয়া বাজার ও কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজারে সমুসা বিক্রি করেন মো. আবদুল মালেক। তিনি উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।

জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার পুরাতন আশুতিয়া বাজারে এবং সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজারে সমুসা বিক্রি করেন মালেক। এছাড়াও বিভিন্ন মেলা কিংবা ওরশ মাহফিলেও তিনি সমুসার দোকান নিয়ে বসেন।

ভিন্ন রকম স্বাদ আর তৃপ্তির জন্য তার হাতের সমুচার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সমুসাপ্রেমীরা তার দোকানে ছুটে আসেন আর তৃপ্তি নিয়ে সমুসা খান।

সমুসা বিক্রেতা আবদুল মালেক জানান, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তার বেচাকেনা চলে। স্বাদে ভিন্নতার কারণে আশপাশসহ দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন তার সমুসা খেতে আসেন। আদা, পেঁয়াজ, কালোজিরা, ধনিয়া-পুদিনাপাতাসহ ২০ রকমের মশলা ব্যবহার করেন, এ জন্যই তার সমুচার এতো স্বাদ। যে তেল দিয়ে সমুসা ভাজেন সেটা একদম ফ্রেশ। একদিনের পুড়া তেল পরের দিন ব্যবহার করেন না। এ কারণে তার সমুসা খেলেও গ্যাস্টিকের সমস্যা হয় না বলে। 

তিনি বলেন, ১ টাকা থেকে বেচা শুরু করেছি। এখন প্রতি পিস সমুসা ১০ টাকায় বিক্রি করছি। কিন্তু চাহিদা একটু কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। আশুতিয়া নতুন বাজারে সপ্তাহে দুই দিন বসেন। এখানে প্রতিদিন ৮-৯হাজার টাকার সমুসা বিক্রি করে থাকেন। এছাড়াও সপ্তাহের বাকি পাঁচদিন কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজারে বসেন। সেখানে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকা বেচেন।

আবদুল মালেক জানান, তার চার মেয়ে সন্তান রয়েছে। সবাই পড়ালেখা করে। তার বড় মেয়ে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সকলের পড়ালেখার খরচ এ পেশা থেকেই আসে। এছাড়াও কিছু কৃষিকাজ করে থাকেন।

সমুসা খেতে আসা জাহিদ হাসান বলেন, এই চাচার সমুসা অনেক জনপ্রিয়। অনেক সুস্বাদু। সব বাজারেই সিঙাড়া-সমুচার দোকান রয়েছে। কিন্তু মালেক চাচার হাতের বানানো সমুচার জুড়ি নেই। যে একবার এই সমুসা খেয়েছে, সে অবশ্যই দ্বিতীয়বার আসবে। প্রায়ই বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে সমুসা খেতে আসি। খুব ভালো লাগে।

আশিক মিয়া নামে অপর একজন বলেন, ছোটবেলা থেকেই মালেক চাচার সমুসার ভক্ত। পেশাগত কাজে এলাকার বাইরে থাকা হয়। বাড়িতে এলেই মালেক চাচার হাতের সমুসা খাই। একটা, দুইটা, তিনটা এভাবে ৪-৫টা পর্যন্ত সমুসা খাওয়া যায়। তবুও যেন মনে হয় খাওয়া হয়নি।

ইমরান নামে অপর একজন বলেন, কিছুদিন আগে তারাকান্দি এলাকার পীরে কামেল হযরত মাওলানা আবদুল হালীম হুসাইনীয়া (র.) এর বার্ষিক মাহফিলে উনার সমুসা খেয়েছিলাম। সেই স্বাদ লেগেছিল। কোথায় তার দোকান জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন কোদালিয়া চৌরাস্তা ও নতুন আশুতিয়া বাজারে বসেন। সেই সূত্রে প্রায়ই চাচার হাতের ভিন্ন স্বাদের সমুসা খেতে আসি। খুবই তৃপ্তি লাগে।

এ ব্যাপারে সুখিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ টিটু বলেন, মালেক আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে সমুসা বিক্রি করে। তার সমুচার অনেক সুনাম রয়েছে।

আরএআর