বরগুনায় ঝড়ে পুকুরে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ নামক এলাকার নিজ বাড়ির পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার রায়ভোগ নামক এলাকার বাসিন্দা মো. মিরাজের স্ত্রী নুপুর আক্তার ও তার দুই বছর বয়সী ছেলে শাহাদাত।
বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়। এতে সদর উপজেলার রায়ভোগ এলাকার বাসিন্দা মো. মিরাজের বাড়ির একটি গাছ উপড়ে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে যায়। তবে বিষয়টি বাড়ির কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি। পরে বুধবার দুপুরের দিকে নুপুর তার শিশু সন্তান শাহাদাতকে নিয়ে ওই পুকুরে গেলে ছিঁড়ে পড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক ওই তার মেরামত করতে গেলে পুকুরের মধ্যে নুপুর ও শাহাদাতের মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুকুর থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত নুপুর আক্তারের দেবর মো. সাইফুল বলেন, গতকাল রাতে ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে ছিল। আমি সকালে কাজ করতে গিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে দেখি ভাইয়ের স্ত্রী ও তার ছোট ছেলে পুকুরে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।
আব্দুল মন্নান নামে আরেক স্বজন বলেন, ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পুকুরে পড়ে ছিল। কিন্তু তা কেউ জানতেন না। ছেলেকে নিয়ে নুপুর পুকুরে গেলে তারা ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিকেলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ছিঁড়ে পড়া তার ঠিক করতে এসে তাদের দেখতে পায়।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে নুপুর আক্তার ও তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আব্দুল আলীম/আরএআর
