বিজ্ঞাপন

হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য ঝিনাইদহের এক গ্রাম

হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য ঝিনাইদহের এক গ্রাম

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রাম এখন অনেকটাই পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। হামলা, পাল্টা হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তর  আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে স্থানীয় ইউপি সদস্য কফিল হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে উমেদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গ্রামে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞতনামা আরও ১৫০ জনের নামে মামলা করেছেন। এই  মামলায়  গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রায় পুরুষ সদস্য বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নারীরা। 

গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, পুরুষরা বাড়িতে না থাকায় পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের পরিবেশ আরও নীরব হয়ে পড়ে।

এই বিষয়ে ইউপি সদস্য কফিল হোসেন মুঠো ফোনে জানান, সংঘর্ষের পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আমার সমর্থকরা আত্মগোপনে রয়েছে। এমতাবস্থায় দিনমজুর পরিবার ও কৃষকরা বিপদে পড়েছে। এছাড়াও আমার অনেক সাধারণ সমর্থককেও মামলার আসামি করেছে। আমরা সবাই এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

এই বিষয়ে মোবাইলে সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেক সমর্থকের নামে মামলা করা হয়েছে। যার কারণে তারা ঠিকমতো হাসপাতালে চিকিৎসা ও নিতে পারছেন না।  আমি নিজেও মামলার আসামি হয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

সম্রাট হোসেন/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন