নারী পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২৭ বাস্তবায়ন বিষয়ক পরামর্শমূলক কর্মশালায় তিনি এই আহ্বান জানান।
পুলিশ কমিশনার বলেন, একজন নারী পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেকে কখনোই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী কর্মকর্তারা পুলিশ সুপারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের পদেও নারীরা দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ফলে নারী সদস্যদের নিজেদের সক্ষমতার প্রতি আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চাকরির অংশ হিসেবে পোস্টিং বা বদলি একটি স্বাভাবিক বিষয়। এ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে যে কোনো কর্মস্থলে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। একজন পুলিশ সদস্যের পরিচয় তার কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আবদুল মাবুদ বলেন, পেশাগত জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো দুঃসংবাদ পেলেও একজন পুলিশ সদস্যকে ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা একজন দক্ষ পুলিশ সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
‘সততা, পেশাদারিত্ব এবং যোগ্যতার প্রতি সম্মান’ -নীতিকে সামনে রেখে নারী ও পুরুষ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য থাকলেও জ্ঞান, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীরা সমানভাবে সক্ষম। তাই নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মান ও সমন্বয়ই একটি আধুনিক, মানবিক ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
এ সময় নারী পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে নারী পুলিশবান্ধব বাজেট, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারী সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ একজন সদস্যকে শুধু জ্ঞানসমৃদ্ধই করে না, বরং তাকে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তোলে। তাই প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আরপিএমপি কমিশনার নারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী পুলিশ সদস্যরা আমাদের সহকর্মী, আমাদের মা-বোনের প্রতিচ্ছবি। তাদের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। নারী-পুরুষ সব সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জনগণের সেবা এবং বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন), বাংলাদেশ পুলিশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ইউনিটের নারী পুলিশ সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে
