বিজ্ঞাপন

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন সামসুজ্জামান সামু

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন সামসুজ্জামান সামু

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রউক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন সামসুজ্জামান সামু। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’ এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী সামসুজ্জামান সামুকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১ বছর মেয়াদে তিনি রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২ পদমর্যাদা) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। 

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এই আদেশটি জনস্বার্থে কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর এই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এ বছরের ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন কর্তৃক ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে। 

আদেশ পেয়ে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। রংপুর নগরীর সব শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সামসুজ্জামান সামু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আংশিক) সংসদীয় আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলালের কাছে পরাজিত হন। রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সামসুজ্জামান সামু বর্তমানে রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক পদে দায়িত্বে রয়েছেন।

এর আগে তিনি রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলার যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির আষ্টেপৃষ্টে বেড়ে ওঠা সামসুজ্জামান সামু ঐহিত্যবাহি কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরবর্তীতে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বে ছিলেন।  

তিনি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সম্মুখসারিতে থাকা বিএনপির এই নেতা হাসিনাবিরোধী আন্দোলনেও ছিলেন অগ্রভাগে। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি ছিলেন।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা হয়। তিনি ২০ বার কারাবরণ করেন। শুধু জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৫ আগস্টের আগে তার নামে ২৫টি মামলা দেওয়া হয়। তার মধ্যে অধিকাংশ মামলায় তিনি প্রধান আসামি বা হুকুমে আসামি ছিলেন।  

এদিকে, সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ, উচ্ছাস-উদ্দীপনা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে রংপুরের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তার পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএসএ  

বিজ্ঞাপন