বিজ্ঞাপন

‘তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় ধোঁয়াশা’

‘তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় ধোঁয়াশা’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রকল্পটির জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খাত উল্লেখ না থাকায় জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়াইবাড়ি স্কুল মিলনায়তনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের উপজেলা কমিটির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কত টাকা ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অর্থ অনুমোদনের বিষয়টি বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তিস্তা মহাপরিকল্পনা কবে একনেকের অনুমোদন পাবে, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য না থাকায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য বিকল্প অর্থায়নের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার সঞ্চয়পত্রের আদলে ‘তিস্তা বন্ড’ চালু করতে পারে। এছাড়া তিস্তা নদী থেকে উত্তোলিত বালু ও পাথর বিক্রির অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

সংগঠনের গঙ্গাচড়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নূর দুলালের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মাহমুদুল আলম ও উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকে অনুমোদন, বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং ছয় দফা দাবি আদায়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী প্রতিটি ওয়ার্ড, হাট ও বাজারে ধারাবাহিক সভা-সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফরহাদুজ্জমান ফারুক/এসএইচএ