ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছেন। ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তার ভ্রূণ নষ্ট করেন জিসান। পরে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে এই শিবির নেতা আত্মগোপনে চলে যান।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, নিখোঁজ ডায়েরির পর তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। অনুসন্ধানকালে প্রথমে জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সজীবের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া শুরু করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সূত্রে জানা যায়, শিবির নেতা জিসান ৫-৬ মাস আগে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি তার দাউদকান্দি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। গত ২০ মে সবশেষ নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এর ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই নারী। এরপর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দাউদকান্দির সেকান্দর আলীর ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে নারীকে খাওয়ান। এর ২-৩ দিন পর বাচ্চা নষ্ট হওয়ার ফলে নারীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ আরম্ভ হলে ভুক্তভোগী নারী জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে বিষয়টি জানান। সজীবের মাধ্যমে পুনরায় জিসান ওষুধ পাঠান। এরপর ওই নারী স্বাভাবিক হলে ভিকটিম জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গত শুক্রবার (১২ জুন) দুজনের বিয়ের কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আটটার পর বিয়ে না করার টালবাহনায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে চাচাতো ভাই রাসেলের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় জিডি করান।
পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে লাকসাম থেকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে খুঁজে বের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে তুলতে দেরি হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার দাবি করেন, ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান পুরোপুরি সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, মূলত ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার রহস্য এবং বিস্তারিত আরও জানানো হবে।
আরিফ আজগর/এসএইচএ
