নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফাজ উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পাঁচ দিন হলেও আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে শতাধিক মানুষ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয়ে সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন।
জানা যায়, গত ৩ জুন বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া গ্রামে বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময়ে আগুনের লেলিহান শিখায় আফাজ উদ্দিন দগ্ধ হয়। পর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (৬ জুন) দুপুরে মারা যায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ৫ মাস আগে গাছের ঝড়া পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় চঞ্চল আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলেকে মারধর করে মোবাইল ভেঙে দেয়। সেই জেরে গত ৩ জুন রাতে রংপুরের তারাগঞ্জ বাজারে আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলেকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে চঞ্চল ও তার পরিবারের সদস্যরা আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলেকে মেরে ফেলার জন্য নির্মাণাধীন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়, কিন্তু সেখানে তার বড় ছেলে না থাকায় আফাজ উদ্দিন আগুনে দগ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, আফাজ উদ্দিনের মৃত্যুর পরে তার স্বজনেরা থানায় মামলা করতে আসলে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা মামলা নেননি। পরে স্বজন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিয়ে থানায় এসে বিক্ষোভ করলে ওসি মামলা গ্রহণ করেন। তবে মামলা গ্রহণ করার পাঁচ দিন হলেও আসামি গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আজকে দুপুরে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে ও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমার বাবাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওসি প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে বিক্ষোভ করলে ওসি মামলা নেয় কিন্তু মামলা নেওয়ার পাঁচ দিন হলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। আমাদের দাবি দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হোক। পুলিশ আসামি না ধরে বিভিন্ন টালবাহানা করছে। আমরা সঠিক বিচার চাই, আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের সহায়তা চাই।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না ৷
এবিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, আসামি ধরছি না অভিযোগটি মিথ্যা, আসামিরা এলাকায় নেই। এটি সেনসিটিভ বিষয়, আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এসএইচএ
