বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেসার্স হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শামীম রেজা শামীম লিখিত বক্তব্যে এ দাবি করেন।
এর আগে শুক্রবার একই স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শামীম রেজা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে জিয়া বাড়ি পর্যন্ত ৪০০ থেকে ৯০০ মিটার অংশে নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স হক ট্রেডার্স। ইলেকট্রনিক দরপত্র (ই-জিপি) পদ্ধতির মাধ্যমে লটারিতে প্রথম বিজয়ী হয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পায়। পরে ৫ শতাংশ কার্যসম্পাদন জামানত জমা দিয়ে চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
তবে চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করে শামীম রেজা বলেন, প্রকল্পের নকশাগত কিছু ত্রুটি এবং মেঠোপথটির সংকীর্ণতা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে ১৬ ফুট প্রশস্ত সড়কের প্রয়োজন, সেখানে বাস্তবে জায়গা রয়েছে মাত্র ৩ থেকে ৫ ফুট। এছাড়া সড়কের দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, শৌচাগার, গোয়ালঘর ও গাছপালা থাকায় সেগুলো অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করতে হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লেগেছে।
তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ স্থানীয় জনগণের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে পড়ায় সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও দেখা দেয়। বর্তমানে দুইজন বাসিন্দার লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ঠিকাদার আরও বলেন, এলজিইডির জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সড়কটি পাশের ঢালাই সড়কের তুলনায় ৩ থেকে ৪ ফুট নিচু এবং একটি খালের পাশে অবস্থিত। ফলে সেখানে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করতে হয়েছে। নতুন ভরাট করা মাটি টেকসই করতে একটি বর্ষা মৌসুম প্রয়োজন ছিল। এরই মধ্যে খালের পাশের কিছু অংশে মাটি ধসে পড়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ির এই সড়ক প্রসঙ্গে শামীম রেজা বলেন, গত ১৭ বছর সড়কটির বেহাল অবস্থা নিয়ে কেউ কথা বলেননি। এটি রাজনৈতিক কারণে অবহেলিত ছিল। অথচ বর্তমানে কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে মানহানিকর।
সংবাদ সম্মেলনে শামীম রেজা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জরুরি ভিত্তিতে যে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে মেসার্স হক ট্রেডার্স বা চলমান প্রকল্পের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়েছিল।
প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে তিনি বলেন, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর ২০২৬ সালের মধ্যে সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর ওই এলাকায় সফরের সময়কার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শুক্রবারে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সময় সড়কটি কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সাময়িকভাবে ভাড়ায় আনা ইট সেখানে বিছিয়ে দেয়। বর্তমানে অনুমোদিত ঠিকাদার বালু ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করায় ওই ইট মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্নীতির সম্পর্ক নেই। তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
আব্দুল মোমিন/এসএইচএ
