বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাগুরা জেলা শাখার আমির এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনের দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকেরকে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার রুকনিয়াত (সদস্যপদ) তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) মাগুরা জেলা জামায়াতের দোয়ারপাড় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা শূরা ও কর্মপরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুবারক হোসেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রীপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল মতিন।
সভায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যাপক এম বি বাকেরকে জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তার রুকনিয়াত তিন মাসের জন্য মূলতবি করা হয়। একই সঙ্গে সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ বাচ্চুকে ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির এবং সহকারী অধ্যাপক মশিয়ার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হত্যা মামলার এক আসামি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পক্ষে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এজন্য কেন্দ্র থেকে এম বি বাকেরকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।
দলীয় সূত্রের দাবি, সংগঠনের নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কয়েকটি খাতে তার আর্থিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে অধ্যাপক এমবি বাকেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আবু সাইদ আহমেদ বাচ্চু বলেন, জামায়াতে ইসলামী সুসংগঠিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি দল। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে শূরা বৈঠকে তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে সাংগঠনিক নীতির কারণে বিষয়টির বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তাছিন জামান/এসএইচএ
