বিজ্ঞাপন

অমঙ্গল দূর করতে পতাকায় বিশেষ পানি ছেটালেন ব্রাজিল সমর্থক

অমঙ্গল দূর করতে পতাকায় বিশেষ পানি ছেটালেন ব্রাজিল সমর্থক

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা রূপ নেয় অনন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের কাণ্ড-কারখানা বরাবরই নজর কাড়ে সবার। তবে এবার কিশোরগঞ্জে প্রিয় দল ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করতে এক সমর্থক যা করলেন, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে স্থানীয়দের। দলের ওপর থেকে সব অমঙ্গল দূর করতে নাতিকে সাথে নিয়ে ব্রাজিলের পতাকায় সোনা ও রূপার পানি ছিটালেন ৫৫ বছর বয়সী এক অন্ধ সমর্থক! 

জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের ব্রাজিল সমর্থক বিল্লাল হোসেন (৫৫) ঘটিয়েছেন এমন কাণ্ড। তিনি ওই গ্রামের আফির উদ্দিনের ছেলে। তার এই ঘটনা জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির পাকা দেওয়ালে ব্রাজিলের পতাকা আঁকিয়ে তাতে সোনা-রূপার পানি ছিটান এই অন্ধ সমর্থক।

রকি নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিল্লাল হোসেন ব্রাজিলের এতটাই কট্টর সমর্থক যে, দলের প্রথম ম্যাচের আগে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। দলের শুভকামনায় সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাবনায় এক অভিনব টোটকা বেছে নেন তিনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ! নিজের নাতি হাফিজুলকে সাথে নিয়ে খাঁটি সোনা ও রূপা ধোয়া পানি প্রস্তুত করেন। এরপর শত শত উৎসুক মানুষের সামনে সেই বিশেষ পানি ছিটিয়ে দেন ব্রাজিলের পতাকায়।

ব্রাজিল সমর্থক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ব্রাজিল আমার রক্তের সাথে মিশে আছে। ৮ বছর বয়স থেকে ব্রাজিল সমর্থন করি। আমার বাপ-চাচারাও ব্রাজিল সমর্থন করতো, নাতি-পুতিরাও করছে। প্রিয় দলের প্রথম ম্যাচের আগে মনে হলো দলের ওপর কোনো অমঙ্গল বা অপয়া দৃষ্টি থাকতে পারে। আমার বিশ্বাস, এই সোনা ও রূপার পানি ছিটানোর কারণে দলের সব অমঙ্গল দূর হয়ে যাবে এবং আমার প্রিয় ব্রাজিল দল এবার রাজকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে।’

এদিকে বিল্লাল হোসেনের এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ চরপলাশ গ্রামে ছুটে আসছেন এই কাণ্ড দেখতে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ফুটবলপ্রেমের চরম ‘পাগলামি’ বলে আখ্যা দিলেও, স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকরা বিল্লালের এই আবেগকে বেশ উপভোগ করছেন। তবে তার এই সোনা-রূপার পানি ছিটানো ব্রাজিল দলের অমঙ্গল কতটা দূর করতে পারে, তা ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট শেষ না হলে নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/ডিএ