বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় বৃদ্ধ

জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় বৃদ্ধ

সীমান্তের শূন্যরেখার একটি ডোবায় বসে আছেন ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। পরনে জরাজীর্ণ পোশাক, চোখেমুখে ক্লান্তি আর তীব্র পিপাসার ছাপ। আর তাকে পাহারা দিচ্ছেন দুই থেকে তিনজন বিএসএফ সদস্য। পরিকল্পনা ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইন করার। কিন্তু বিএসএফের সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে বসেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাদের কঠোর অবস্থানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিএসএফ। ওই বৃদ্ধকে নিয়ে ডোবার পাশে বসে রয়েছেন তারা।

ঘটনাটি ঘটছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর মেইন পিলারের ২৭ নম্বর সাব পিলার এলাকায়। রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮টা থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই সীমান্ত এলাকা। সন্ধ্যা ৬টা পেরিয়ে গেলেও ওই বৃদ্ধকে একইভাবে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমান্ত সংলগ্ন মাঠে কয়েকজন কৃষক কাজ করছিলেন। এ সময় ওই বৃদ্ধ তাদের কাছে এসে খাবার ও পানি চান। তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক পরিচয় দিয়ে জানান, ভোরের দিকে বিএসএফ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে কৃষকেরা বিষয়টি হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পে জানান। বিজিবি ওই বৃদ্ধকে ভারতীয় অংশে পাঠিয়ে দেয়। তবে, বিএসএফ তাকে গ্রহণ না করে সীমান্তের শূন্যরেখায় একটি ডোবায় বসিয়ে রাখে। ডোবার এপারে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা অবস্থান নেয়। অপর পাশে বিএসএফ সদস্যরা ছিলেন।

হাটখোলা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃদ্ধ লোকটি তৃষ্ণার্ত ছিলেন। তিনি এপারে এসে পানি খেতে চেয়েছিলেন। তাকে পানি খাওয়ানো হয়। তিনি ভারতীয় নাগরিক। বিজিবির সদস্যরা এসে তাকে ভারতীয় সীমান্তে ফেরত পাঠান। কিন্তু বিএসএফ তাকে শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান বলেন, ‘সকালে এপার করে দ্যাচলো, কিন্তু পারেনি। এখন ওই লোকটাক নিয়ে ওরাও বসে আছে, এপারে এরাও বসে আছে। আর লোকটা পানিত বসে আছে। এখন এরাও নিবে না, ওরাও নিবে না। মাঝখানে বসে থুচে-থাক। এখন মিটিং করবে, না কিরবে, ওনাই জানে।’

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএসএফ এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইন করেছিল। আমরা তাকে পুশব্যাক করেছি। তিনি ভারতের নাগরিক। অথচ বিএসএফ তাকে নিয়ে যাচ্ছে না।

চম্পক কুমার/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন