মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মানুষকে কামড়িয়ে আহত করে। কুকুরের তাণ্ডবে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা কলেজপাড়ার নুহু (৯), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ (৬৩), গাংনী উত্তরপাড়ার মাহাবুর রহমান (১২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিয়া আক্তার (১২), চৌগাছা গ্রামের হাজি আব্দুল মান্নান (৭০), পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া (১৬), হারদি গ্রামের কাদব আলী (৫৬), গাংনী বাজারপাড়ার মুকুল মিয়া (৪৫), গাংনী বাগানপাড়ার হাবিবুর রহমান (২২), ধানখোলা গ্রামের রফিক (৫৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রহমান (৬০) এবং পূর্ব মালসাদহ গ্রামের হযরত আলী (৫০) সহ মোট ১৭ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুরটি প্রথমে গাংনী উপজেলা পরিষদ গেট এলাকায় কয়েকজনকে কামড়ায়। এরপর বাসস্ট্যান্ড, আমিন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার সংলগ্ন গলি, থানা রোডসহ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়িয়ে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড় দেয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৭ জন আহত হন। কুকুরটির আক্রমণে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক পথচারী নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে আশ্রয় নেন।
কুকুরের কামড়ে আহত মাহাবুর রহমান বলেন, কুকুরটি হঠাৎ করেই মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়াদৌড়ি করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড় দিয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাননি। বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আহত সাদিয়া সুলতানা বলেন, কামড়ানোর পরপরই আমরা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে হাসপাতালে রেবিসের ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ময়নাল হোসেন বলেন, শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। কুকুর মুরগি ও গবাদিপশুর ওপর হামলা করছে। ছোট শিশুদের নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সামিয়া সুলতানা জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, হাসপাতালের র্যাবিস ভ্যাকসিনের মজুত কিছুদিন আগে শেষ হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত প্রথম ডোজ বাইরে থেকে সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাহাবুল ইসলাম/এসএইচএ
