ওমরাহ হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার হেদায়েতুল ইসলাম ওরফে মানিক হুজুর (৬৫)। টানা তিন বছর তিন মাস সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে গত ১৩ মে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।
স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর সুস্থ করে ঘরে ফেরানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত হেদায়েতুল ইসলাম পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে সৌদি আরব যান মানিক হুজুর। মক্কায় কয়েকদিন অবস্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারি মদিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ফ্লোরে পড়ে যান তিনি। পরে তাকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার থেকে পাঁচ মাস সিসিইউ ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর প্রায় তিন বছর তিন মাস তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের দাবি, এই সময়ে তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল পরিবার। সর্বশেষ তার মেজো ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সৌদি সরকারের সহযোগিতায় গত ১৩ মে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
আবুল কালাম নামে এক প্রতিবেশী বলেন, একদম সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ করতে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অসুস্থ হয়ে অচেতন অবস্থায় (কোমায়) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে কেউ থাকার সুযোগ না থাকায় স্ত্রী তখনই দেশে ফিরে আসেন। এলাকার মানুষজন মাঝেমধ্যে গিয়ে দেখে আসতেন। তার ছেলেও সৌদি গিয়ে বাবাকে দেখে এসেছিল। টানা এতদিন একজন মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ায় সৌদি সরকার অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের মধ্যস্থতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও আর ঘরে ফেরা হয়নি। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুমের ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পর আমরা বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম। আশা ছিল তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা আর হলো না। আমরা সকলের কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আজ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে বাবাকে দাফন করা হবে।
তারেক চৌধুরী/আরএআর
