দুবাইয়ের শারজায় বাস করেন কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালংয়ের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম। প্রবাসী এই ব্যবসায়ী ২০০৭ সালে নিজের এলাকার জাফর আলম নামে এক যুবককে দুবাইয়ে চাকরি দিয়েছিলেন। কর্মসংস্থানসহ জাফরকে উন্নত জীবনের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে উল্টো আবুল কালাম হয়েছেন প্রতারণার শিকার। ৬৭ হাজার দিরহামের একটি চেকসহ আবুল কালামের প্রায় ৩ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে ২০১০ সালে জাফর পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল কালামের ভাই নুরুল আমিন আদালতে বাদী হয়ে জাফরকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পলাতক থাকা সেই প্রতারণা মামলায় অবশেষে সম্প্রতি জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, জাফরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করা হলে তাকে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জাফর গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীর কষ্টার্জিত টাকা লুটে নিয়ে প্রতারণা করে বিশ্বাসঘাতকতা করা জাফরের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজাপালংয়ের টিএনটি-লম্বাঘোনা গ্রামের মাহছন আহমদ প্রকাশ মাহছন ডিলারের পুত্র জাফর নিজেকে দুবাইয়ের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন। দুবাইয়ে আবুল কালামের সাথে প্রতারণার পর আরব আমিরাতের অন্য এক প্রদেশে পালিয়ে থাকেন বর্তমানে কারাবন্দী জাফর। সম্প্রতি দেশে ফিরে একটি রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের পদ বাগিয়েছেন তিনি।
টিএনটি-লম্বাঘোনা গ্রামে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগভুক্ত উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনের প্রায় ৫ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে জাফর দ্বিতল বিশিষ্ট বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, আমার শ্রমের টাকা আত্মসাৎ করে সরকারি জায়গা দখল করে জাফর বাড়ি বানিয়েছে। তাকে আমি মানবিকতা দেখিয়ে গাড়ি চালকের চাকরি দিয়েছিলাম। সে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং তার কারণে আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘকাল কষ্ট পেয়েছি। ১৬ বছর পর সে আইনের আওতায় আসায় আমরা খুশি।
মামলার বাদী নুরুল আমিন বলেন, আমরা পুলিশকে সাধুবাদ জানাই। এখন ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় আছি, আমার ভাইসহ আমাদের পরিবারের বড় ক্ষতি করেছে সে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, আবুল কালাম ভাই জাফরকে চাকরি দিয়েছিল, সে তার এতো বড় ক্ষতি করবে ভাবিনি। প্রবাসীরা টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, তাদের সাথে এমন প্রতারণা যারা করে তারা যেন রেহাই না পায়। আমরা গ্রামবাসীরা জাফরের শাস্তি দাবি করি এবং সেটি যেন উদাহরণ হয়ে থাকে যাতে আর কেউ প্রবাসীদের সাথে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা না করে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের অসংখ্য প্রবাসী বিদেশে আয় করে দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তারা দেশের সম্পদ, তাদের সাথে প্রতারণা মানে নাগরিক সমাজের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক বার্তা। প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের পক্ষে থেকে তাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহলের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে বন বিভাগের জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ প্রসঙ্গে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুল ইসলাম বলেন, এটি অনেক আগেই নির্মাণ করা হয়েছে এবং সে সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যদি অভিযোগ পাই তাহলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা দখলমুক্ত করতে যে বিধি রয়েছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারকের কাছে আসামি জাফরের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এসএইচএ
