মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ স্বজনকে দেখতে আসা এক যুবক ও তার নারীসঙ্গীকে গোপনে ভিডিও ধারণের পর আটকে রেখে মারধর, মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহিন নামে এক ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েকজন আনসার সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেলেও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবকের দাবি, রোববার বিকেলে হরিরামপুর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তার অসুস্থ বৃদ্ধা নানিকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করান তিনি। নানির দেখভালের জন্য তার পরিচিত এক নারীও হাসপাতালে আসেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে হাসপাতালের একটি শৌচাগারে অবস্থানকালে দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয় শাহিন তাদের ভিডিও ধারণ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর তাদের হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ওয়ার্ডবয় শাহিনসহ কয়েকজন আনসার সদস্য তাদের মারধর করেন। পরে তাদের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৩ মডেলের মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার তিন শ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী যুবক আরও অভিযোগ করেন, প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওয়ার্ডবয় শাহিন ও তার এক সহযোগী ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে নারীসঙ্গীকে নিয়ে রাত কাটানোর আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ঘটনার পর হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রাসেল গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী যুবকের মোবাইল ফোন ফেরত দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ওই যুবক ও নারীসঙ্গীকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যান।
আনসার বাহিনীর সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রাসেল বলেন, সকাল ৯টার দিকে ওয়ার্ডবয় শাহিনের সঙ্গে দেখা হলে আমি ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি নাশতা খেয়ে আসবেন বলে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় শাহিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএআর
