নরসিংদীর সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া সারোয়ার হোসেন (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাটেক (মিশুক) ও বিক্রি করা চারটি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ।
নিহত সারোয়ার হোসেন নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী এলাকার হাজী রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (বিভাটেক) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন দুপুরে টাওয়াদী এলাকা থেকে সারোয়ার তার বিভাটেক নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরে ১৪ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ের জমির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী রহমান বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুকের নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে।
তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার হারুয়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৭) এবং নরসিংদীর বুড়িদিয়ামারা এলাকার কবির হোসেনের ছেলে আশিক (২১)-কে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, নিহত সারোয়ারের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন আনোয়ার কৌশলে সারোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে যায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর বিভাটেকটি নিয়ে যায় এবং এর ব্যাটারিগুলো বিক্রি করে দেয়। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভাটেক ও বিক্রি করা চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কারণ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আমিনুর রহমান সাদী/এসএইচএ
