ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেছেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা নিলে এ জেলায় চাকরি করতে পারবে না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে-টাকাটা কোনো কম্পিউটার দোকান নিচ্ছে, নাকি পুলিশের কেউ নিচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদেও নজর রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রকৃত দোষী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, আবার নিরপরাধ কাউকেও হয়রানির শিকার হতে হবে না। আন্দোলনে (বৈষম্যবিরোধী) অস্ত্র ব্যবহারকারীরা দেশে থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু পুলিশ ধরলে বা মামলা দিলেই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বাবা-মাসহ সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। কিশোররা নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়? এ সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শহরের হকার সমস্যা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, হকারদের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা থাকে। বিষয়টি নিয়ে আগামীতে বসব। পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে পুলিশের কেউ জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেনী সীমান্ত মাদকের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এ কারণে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বড় বড় কথা বলব না। কথায় আছে, বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়। আমি আসার পর যেভাবে হাসিমুখে দাঁড়াতে পেরেছি, চলে যাওয়ার দিনও যেন সেভাবে হাসিমুখে বিদায় নিতে পারি। চোরের মতো যেন পালাতে না হয়। কেউ এমনটি ভাববেন না যে, ফেনীতে কোনো ঘটনা ঘটলে বা অপরাধ বেড়ে গেলে আমরা বসে থাকব। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
মতবিনিময় সভায় ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ফেনীতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক চৌধুরী/এএমকে
