বিজ্ঞাপন

শিশু নন্দিনী হত্যায় উত্তাল আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত ২০

শিশু নন্দিনী হত্যায় উত্তাল আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত ২০

শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম। এতে এসপি, ওসিসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এসময় ডিসির গাড়িসহ প্রশাসনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে আসামিকে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত শিশু নন্দিনী ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান,  সোমবার বিকেল থেকে হঠাৎ নন্দিনীকে (৭) খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুজি করেও সন্ধান মেলেনি। সকালেও খুঁজতে বের হয় তার পরিবার ও স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে তার বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর মাটি খুঁড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্র নামে এক যুবককে ওই ভুট্টা ক্ষেত থেকে কোদাল নিয়ে আসতে দেখছিলেন এক ব্যক্তি। নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই যুবক পলাতক ছিলেন। সেই সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ভাঙচুর করে ভিতরে প্রবেশ করে আত্মগোপনে থাকা বিধান চন্দ্রকে আটক করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ বিধানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় অভিযুক্ত বিধানকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরা বিচার করার দাবিতে মব সৃষ্টি করে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় জনতা।

খবর পেয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া ক্রাইমসিন ইউনিট। একে একে সদর থানা, কালীগঞ্জ থানা, ডিবি থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকেও অবরুদ্ধ করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো গ্রাম। 

এক পর্যায়ে তাদেরকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদেরকেও অবরুদ্ধ করা হয়। এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। এ সময় থেমে থেমে প্রশাসনের উপর হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

অবশেষে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অভিযুক্ত বিধান ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসনের লোকজন। এ সময় শেষ দফায় প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকল ছুঁড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। জনতার ছোড়া ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এরপর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদকসেবী বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী নন্দিনীকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখে। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাড়ির বাইরে তালা দিয়ে ভিতরে আত্মগোপনে থাকেন বিধান চন্দ্র। তার সেই বাড়িটি বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর করে বিধানকে আটক করে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, সকাল থেকে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। ইটের আঘাতে আমি নিজেও আহত হয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাঁধা দানের ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হবে। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, নৃশংস এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এসএইচএ