বিজ্ঞাপন

১২ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ

১২ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ

মাত্র ১২ বছর বয়সেই পবিত্র কোরআন শরীফ সম্পূর্ণ মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রুবায়েত সরদার। একই কৃতিত্ব দেখিয়েছে ১৩ বছর বয়সী মৃদুল ইসলামও। অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় ও একাগ্র সাধনার মাধ্যমে তারা সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসায় তাদের সম্মানে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফুলের মালা পরিয়ে নবীন দুই হাফেজকে বরণ করে নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃদুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলার বাড়ৈপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুবেল হাওলাদার ও মাহিনূর বেগম দম্পত্তির ছেলে। রুবায়েত সরদার গোলারবাজার এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক তপন ও আয়েশা খানম দম্পত্তির ছেলে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল দুই শিক্ষার্থীর। কায়দা, আমপারা ও নাজেরা শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তারা হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা সফলভাবে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।

হাফেজ মৃদুল ইসলাম বলে, আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাকে কোরআনের হাফেজ বানানো। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে আমিও অনেক পরিশ্রম করেছি। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশের মানুষের খেদমত করতে চাই।

হাফেজ রুবায়েত সরদার বলে, বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি। আমি শুধু হাফেজ হয়েই থেমে থাকতে চাই না। ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই।

ছেলেদের এমন অর্জনে আনন্দিত পরিবারও। মৃদুলের মা মাহিনূর বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে হাফেজ বানাবো। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। এখন চাই সে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসার প্রধান অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুস ছাত্তার খান বলেন, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের মাদরাসা থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৯৯ জন ছেলে এবং দুইজন মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা শুধু কোরআন মুখস্থ করানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নই, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে মাওলানা ও আলেম হয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখবে এবং ইসলামি শিক্ষা ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নয়ন দাস/এএমকে