বিজ্ঞাপন

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ অর্জন করেছে মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত এই গুড় দীর্ঘদিন ধরে স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হাজারী গুড় ইতোমধ্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়িয়েছে। এর স্বতন্ত্র স্বাদ, মনোমুগ্ধকর সুগন্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতি একে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১ সোমবার (১৫ জুন) এ নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে এই গুড়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কারিগর ও উৎপাদকরা ঐতিহ্য ধরে রেখে তৈরি করে আসছেন হাজারী গুড়। জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথও একসময় এই গুড়ের স্বাদ গ্রহণ করে তার প্রশংসা করেছিলেন। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত বা ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জিআই স্বীকৃতি মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

জিআই নিবন্ধন সনদে উল্লেখ করা হয়, ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধন বইতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে, মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় পণ্যের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় বিপণন ও রপ্তানির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এই গুড় নতুন মাত্রা পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারিগরদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএমকে