রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা নারুয়া ইউনিয়নে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে মারধর, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে আসামি মিঠু শেখকে (৩০) বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বালিয়াকান্দি পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৯ জুন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় নারুয়া ইউনিয়নের বিলটাকাপোড়া গ্রামের মনসুর আলী কলেজের সামনের পাকা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুহুল আমিন (৩৪) বিলটাকাপোড়া গ্রামের মৃত কালাম খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে আসছেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেলে পেঁয়াজ কেনার উদ্দেশ্যে স্থানীয় নারুয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মনসুর আলী কলেজের সামনে পৌঁছালে, পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধের জেরে একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী শেখের ছেলে মিঠু শেখ তার পথরোধ করে। মিঠু শেখ ভুক্তভোগী রুহুল আমিনকে মোটরসাইকেল থেকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলাফুলা জখম করে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর প্যান্টের পকেটে থাকা পেঁয়াজ ক্রয়ের নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক মোটরসাইকেলের চাবিসহ ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। যাওয়ার সময় বিষয়টি পুলিশ বা থানাকে জানালে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বালিয়াকান্দি থানায় হাজির হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক মো. কাঞ্চন মিয়া ১৬ জুন দুপুর ২টার দিকে বালিয়াকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে আসামির প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলেই গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে প্রেরণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
