খুলনার সোনাডাঙ্গায় মিলন নামে এক গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় তাকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
এর আগে, তাকে কান ধরে ওঠবস ও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নিয়ে যায়।
নির্যাতনকারী দম্পতি হলেন সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্র।
জানা যায়, নির্যাতনে শিকার হওয়া ওই গৃহপরিচারিকা নরসিংদীর বাসিন্দা। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই পপি মিত্রের বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত ৫ বছর ধরে পপি দম্পতির সঙ্গে থাকেন তিনি। বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহপরিচারিকার ওপর নির্যাতন চালায় ওই দম্পতি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনাডাঙ্গায় একটি বাড়ির বারান্দায় এক নারীকে একাধিকবার কান ধরে ওঠবস করানো এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে একজন সংবাদকর্মী ও তিনজন সামাজিক সংগঠনের নারী নেত্রী বিষয়টি দেখে ওই বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৯৯৯ কল দিয়ে কৌশলে ভেতরে ঢুকে ওই গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধার করেন তারা। গৃহপরিচারিকার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি ও কড়াই দিয়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। কুমড়ার তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। এর আগেও ওই নারী গৃহপরিচালিকার শরীরে বিভিন্ন আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়। সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্র দুইজন সোনাডাঙ্গা থানায় পুলিশের চাকরি করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পরবর্তীতে পুলিশ ওই গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। এ ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। থানার দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাদের দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে।
মোহাম্মদ মিলন/এএমকে
