বিজ্ঞাপন

বরগুনায় ১৭ দিনে ২১ মরদেহ উদ্ধার, দুই মামলায় গ্রেপ্তার ৫

বরগুনায় ১৭ দিনে ২১ মরদেহ উদ্ধার, দুই মামলায় গ্রেপ্তার ৫

বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে চলতি মাসে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ মোট ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ড এবং ৯টি আত্মহত্যাসহ আরও ৯টি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার বাসিন্দারা।

চলতি মাসে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনাসহ প্রতিটি ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের পাশাপাশি অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। এ ছাড়া, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিসহ এখন পর্যন্ত জড়িত সন্দেহে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা এ তথ্য জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার-সংলগ্ন এলাকায় মো. শামীম বেপারী (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই ব্যবসায়ী ৭ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর ১২ জুন বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং কালু বাহিনীর প্রধান কালুকে ওইদিনই ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফার স্বজন ও স্থানীয়র ক্ষিপ্ত হয়ে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ জুন বরগুনার পাথরঘাটা পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি রাস্তার পাশ থেকে মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা নামাজ পড়তে বের হয়ে মিজানুরকে মৃত অবস্থায় রাস্তার পাশে দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মিজানুরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বরগুনায় এ তিনটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ী শামীমের স্ত্রী ও রিকশাচালক মিজানুরের ভাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত শামীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ তিন এবং মিজানুর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুইজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মোট তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে আত্মহত্যাজনিত কারণে ৯ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ১৮ জনের মধ্যে গত ৬ জুন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি আলাদা কক্ষ থেকে দুই সন্তানসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর নিহত মা ইতি রানীর স্বামী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই মেয়েকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন।

বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও বিভিন্ন ধরনের আলোচনার সৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, উদ্ধারকৃত প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।

হঠাৎ করে জেলায় আত্মহত্যাজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহর ময়নাতদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী যে কারোর প্রকৃত অভিবাবক ডাক্তারি রিপোর্ট প্রাপ্তির পর কোনো বির্তক সৃষ্টি হলে যাতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

মো. আব্দুল আলীম/এএমকে