বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের আল-জউফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন শিকদার (৬০) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গিয়াস উদ্দিন শিকদার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উত্তর আলম নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন শিকদার প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান। আল-জউফ এলাকায় তিনি একজন মালিকের তত্ত্বাবধানে একটি কৃষি ফার্মে (মাজরা ভিসা) কর্মরত ছিলেন।

বুধবার দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার মেয়ে বিবাহিত এবং ছেলে বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন।

নিহতের ভাই শাহিনুজ্জামান শিকদার (৪৬) বলেন, বুধবার বিকেলে হঠাৎ আমরা খবর পাই ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। তার স্ত্রী ও সন্তানরা আহাজারি করছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফাদ খান বলেন, গিয়াস উদ্দিন শিকদার ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ। তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবায় কাজ করেছেন। বিদেশের মাটিতে তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী বলেন, এসব ক্ষেত্রে সাধারণত কোম্পানি মরদহ দেশে পাঠানোসহ অন্যান্য সহায়তায়  প্রদান করে থাকে। মরদেহ দেশে আসার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, তবুও যদি কোনো কারণে বিদেশের কোম্পানি মরদেহ দেশের আনার জন্য সহায়তা দিতে না চায়, তাহলে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের  ভিত্তিতে ওই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে এনে দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা বাংলাদেশ সরকার করবে।

জহির হোসেন/এসএইচএ