ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা, তার স্ত্রীসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল ইসলাম নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। বুধবার ( রাতে জেলার ত্রিশাল উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত। ২০২৩ সালে তিনি নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি কিনে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে নির্মাণকাজ চলছিল।
এ সময় স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা নির্মাণসামগ্রী তাদের কাছ থেকে কেনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম নিজের পছন্দমতো অন্য জায়গা থেকে মালামাল কেনায় ক্ষুব্ধ হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে বাড়ির নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত রোববার বিকেলে আবারও সাইফুল ইসলাম তাদের বাসায় গিয়ে নির্মাণসামগ্রী তার কাছ থেকে কেনার জন্য চাপ দেন। নজরুল ইসলাম এতে রাজি না হলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়।
হামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যদেরও মারধর করেন।
এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তিন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে আরও তিনজন, যার মধ্যে একজন চাকু হাতে দৌড়ে এসে হামলায় অংশ নেন। হামলার সময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার চরপাড়া জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন। পরে একই দিন অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে আমাকে বলে, চাঁদা দিতে হবে, না হলে কাজ দিতে হবে। আমি মনে করেছিলাম হয়তো হুমকি পর্যন্তই থাকবে। কিন্তু এভাবে হামলার শিকার হবো- একজন কর্মকর্তা হিসেবে আমি কখনোই কল্পনা করিনি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুল ইসলামকে শনাক্ত করে ত্রিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সাখাওয়াত সুমন/আরএআর
