বিজ্ঞাপন

রৌমারী সীমান্তে ৫ দিন ধরে অবস্থান, সরানো হলেও বাড়ি ফেরেননি বিল্লাল

রৌমারী সীমান্তে ৫ দিন ধরে অবস্থান, সরানো হলেও বাড়ি ফেরেননি বিল্লাল

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় গত পাঁচ দিন ধরে অবৈধ পুশইনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৯ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে নারী ও দুই শিশুসহ চারজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ৫ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সরিয়ে নেওয়া চারজন হলেন- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।

জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে গোহাটি পুলিশের হাতে আটক হলে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত রোববার ভোরে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে বাংলাদেশ অভিমুখে পাঠিয়ে দেয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রৌমারীর ভুন্দুরচর সীমান্তে তিনজন এবং গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজনসহ মোট পাঁচজন এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা ঘরে একাই বসে আছেন। ছেলের বাড়ি ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের কাছেই শুনলাম যে ছাড়া পাইছে। এখনো বাড়িতে আসে নাই। এখন তো আমাদের চিন্তা আরও বেড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, ছাড়া পাওয়ার খবর শুনলেও বিল্লালের সঙ্গে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিরুনীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল হোসাইন বলেন, এখনো তারা বাড়ি ফেরেনি। তবে বিজিবির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। গতরাতে আমার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে।

রাত ৮টার দিকে বিল্লালের চাচার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বিল্লাল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফেরেনি। তারা বাড়িতে ফিরে আসলে যোগাযোগ করে জানানোর কথাও বলেন তিনি। 

এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। 

সাখাওয়াত সুমন/আরএআর

বিজ্ঞাপন