বিজ্ঞাপন

অসাধু চক্র চায় না সুন্দরবনে কোস্টগার্ড সক্রিয় থাকুক : মহাপরিচালক

অসাধু চক্র চায় না সুন্দরবনে কোস্টগার্ড সক্রিয় থাকুক : মহাপরিচালক

গত ১১ জুন মিরাজ নামে এক নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কোস্টগার্ডের কয়েকজন সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে ৩ শতাধিক লোককে আসামি করে মোংলা থানায় মামলা করা হয়।

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, গেল দুই-আড়াই মাস সুন্দরবনে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অপারেশনের আওতায় সুন্দরবন থেকে ২৯ জন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। ৪০-৪২টি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনে থাকা ডাকাতদের বেশ কিছু আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি বাহিনী কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণও করেছে। আরও কয়েকটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করবে, সে ধরনের যোগাযোগ চলছে। তারা খুব শিগগিরই আত্মসমর্পণ করবে। তবে কিছু কিছু বাহিনী খুবই অস্বস্তিতে রয়েছে কোস্টগার্ডের তৎপরতায়। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে হারবাড়িয়া এলাকায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি সুন্দরবনের হারবারিয়ায় কোস্টগার্ডের স্টেশনে হামলার বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, বেশকিছু বাহিনী দস্যু বাহিনীর কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি বড়সর অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখানে (সুন্দরবনাঞ্চলে) রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকার কাছাকাছি। কোস্টগার্ডের তৎপরতায় কিছু অসাধু চক্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা চায় না সুন্দরবনে কোস্টগার্ড সক্রিয় থাকুক। এসব অসাধু চক্রই কোস্টগার্ডের একটি স্টেশনে হামলা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য তোরা কোস্টগার্ডকে দমিয়ে রাখতে চায়, দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চায়। কোস্টগার্ড তা হতে দেবে না। যে কোনো মূল্যে কোস্টগার্ড তা প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর স্থাপনায় হামলা কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান। উক্ত ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরএআর

বিজ্ঞাপন