রাজবাড়ী শহরের খানাখন্দে ভরা হাসপাতাল সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারী, রোগী ও স্বজনদের। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আষাঢ়ের বৃষ্টিতে হাসপাতাল সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ ভরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে, সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসরে সামনে, সারের গোডাউনের সামনে, বিদ্যুৎ অফিস ও আনসার ভিডিপির অফিসের সামনে, কাজীকান্দা খবিরের দোকান, সেগুনবাগিচা, গালস স্কুল মোড়, ন্যাশনাল ব্যাংক মোড় এলাকায় বৃষ্টিতে রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এছাড়া ২নং রেলগেট থেকে পাবলিক হেলথ পর্যন্ত রাস্তায় দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সামনে ও আশপাশের এলাকায় রোগী বহনকারী যানবাহন এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতাদের যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়কের সংস্কারের দাবি জানান।
হাসপাতালের সামনে কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে ড্রেন নির্মাণের জন্য হাসপাতালের সামনে মাটি খুঁড়ে রেখেছে। কিন্তু ড্রেন নির্মাণে ধীরগতির কারণে ভোগান্তি বেড়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীরা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, হাসপাতাল সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএস মো. আলী খান বলেন, গত ১০ মার্চ সদর হাসপাতাল রোড সহ রাজবাড়ী পৌর এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। ১নং রেলগেট থেকে শুরু করে পাবলিক হেলথ মোড় পর্যন্ত আরসিসি রাস্তার উন্নয়ন এবং ফুটপাতসহ আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ভায়া ২নং রেলগেট এবং সদর হাসপাতাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৭৬ মিটার সড়ক ও ড্রেনের কাজ হবে। কিন্তু এই কাজের ধরন কিছুটা পরিবর্তন করার জন্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয় পরামর্শ দিয়েছিলেন। রাস্তার কাজে কিছু পরিবর্তন আসবে। সড়কটি আরসিসি রোড হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রতিমন্ত্রী ইউনি ব্লক দিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য রাস্তার কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। তবে ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সমাপ্ত হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
