বিজ্ঞাপন

স্ত্রীকে আনতে গিয়ে জনরোষে মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন ছাত্রদল নেতা

স্ত্রীকে আনতে গিয়ে জনরোষে মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন ছাত্রদল নেতা

স্ত্রীকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে জনরোষের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে তিনি ও তার সহযোগীরা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাগ শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল নন্দীগ্রাম সরকারি মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল প্রায় দুই বছর আগে ভাগ শিমলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে আরফিন আলমগীর রিভাকে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন। তবে রিভার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের পারিবারিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

প্রায় দুই মাস আগে শাকিল রিভা দম্পতির ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। গত রোববার (১৪ জুন) রিভার বাবা-মা বিয়ে মেনে নিয়ে মেয়েকে শাকিলের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর বুধবার (১৭ জুন) বাবার বাড়ি থেকেই রিভা শাকিলকে তালাকনামা পাঠান।

তালাকের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাকিল তিনটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ শিমলা গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন বাড়ির সদস্যদের মারধর করে রিভাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে শাকিল ও তার সহযোগীরা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আরফিন আলমগীর রিভা বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাকিল ও তার মা আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। আমার গহনাগুলোও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সন্তান জন্মের পরও আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বাবা-মা বিয়ে মেনে না নেওয়ায় আমি প্রথমে শাকিলের বাড়িতেই ছিলাম। গত ১৪ জুন বাবা-মা আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। এরপর আমি শাকিলকে তালাক দেই। তালাকের খবর পেয়ে সে লোকজন নিয়ে আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল বলেন, আমি প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। হঠাৎ তালাকের খবর পেয়ে কারণ জানতে শ্বশুরবাড়িতে যাই। সেখানে আমার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিককেও মারধর করা হয়। পরে আমরা প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেগুলো নিতে কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সময় নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে শাকিলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েক দিন পর তাকে পুনরায় দলীয় পদে বহাল করা হয়।

আব্দুল মোমিন/আরকে