বিজ্ঞাপন

পাকুন্দিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা

পাকুন্দিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরি। এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে একাধিক খামারে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন অনেক খামারি। এসব ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে অন্য খামারিদের মাঝেও।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে গরু চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র খামার কিংবা গোয়ালঘরের তালা কেটে, আশপাশের বসতঘরে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে খামারের গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক খামারি তাদের সবটুকু পুঁজি খাটিয়ে একেকটি খামার গড়ে তোলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ জুন রাতে পৌরসদরের শ্রীরামদী গ্রামের গোলাপ মিয়ার খামারে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র খামারের তালা কেটে ভেতর থেকে চারটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এতে ওই খামারির ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

গোলাপ মিয়া জানান, রাত অনুমান ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চোরচক্র হানা দেয় তার খামারে। এসময় চোরেরা বসতঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়, যাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারে। পরে তারা খামারের তালা কেটে ফ্রিজিয়ান গাভীসহ চারটি গরু খামার থেকে চুরি করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আগে বাজারে ব্যবসা করতাম। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কলেজপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে গরুর খামার দেই। ব্যবসার সব পুঁজি খামারে বিনিয়োগ করেছি। সব গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু গরু কিংবা চোরের কোনো হদিস মেলেনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের চিলাকাড়া গ্রামের সরকার বাড়ির একটি খামারে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই বাড়ির আমিন মিয়ার খামার থেকে পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। 

এছাড়া সম্প্রতি উপজেলার চরআলগী, কুমারপুর, হোসেন্দী, নারান্দী, জাংগালিয়া এবং এগারোসিন্দুরে বেশ কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে গরু খামারিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পুলিশ কিছু ক্ষেত্রে চুরি যাওয়া গরুসহ চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে অল্প সময়েই জামিন পেয়ে ফের চুরি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, গরুচোর রোধে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে চুরি যাওয়া বেশ কিছু গরু উদ্ধার এবং চোরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তারা জামিন পেয়ে ফের এসব অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। চুরি রোধে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ-জনতা মিলে পাহারার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাখাওয়াত হোসেন/আরকে

বিজ্ঞাপন