লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলার দুই মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ভুট্টাখেতে মাটি খুড়ে সাত বছরের শিশু নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিক সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ওই এলাকার রণজিৎ কুমারের ছেলে বিধান চন্দ্রকে আটক করা হয়। সেই অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশ ও জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৩৫/৪০ জন আহত হন। এ সময় ডিসি-এসপির গাড়িসহ সাতটি গাড়ি ভাংচুর করে হামলাকারীরা।
এ ঘটনায় বুধবার আদিতমারী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১২০০-১৫০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে একই থানায় বৃহস্পতিবার আরও একটি মামলা দায়ের করেন উপজেলা পরিষদের স্টাফ আব্দুর রাজ্জাক। সেই মামলায়ও অজ্ঞাত ১২০০-১৫০০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এই দুই মামলায় প্রায় ৩ হাজার অজ্ঞাতদের বিবাদী করে মামলা দায়ের হয়েছে।
এই দুই মামলায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ডিবি ও থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান ওসি নাজমুস সাকিব সজীব।
নন্দিনী হত্যা-পরবর্তী হামলার ঘটনায় জেলা পুলিশ বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে মঙ্গলবার আদিতমারী থানায় খুনি বিধান চন্দ্র ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিধান ও তার বাবা রনজিৎকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি পুলিশ। সামাজিক বিবাদের ক্ষোভের জেরে নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বিধান চন্দ্র।
লালমনিরহাট পুলিস সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী দৃবৃত্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। আমরা সরকারী কাজে বাঁধা দেওয়ার দুই মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
এএমকে
