নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত নির্জন গার্মেন্টসে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরসহ আরও কয়েকজন। তাদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য, হঠাৎ বয়লার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই কারখানার বাইরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবি, বয়লারের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া, কারখানার অভ্যন্তরীণ সড়কে মালামাল রাখার কারণে চলাচলের পথ সংকুচিত ছিল। ফলে দুর্ঘটনার সময় অনেক শ্রমিক দ্রুত বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েন। ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
এ সময় উত্তেজিত কিছু শ্রমিক কারখানার পিএম জসীম উদ্দীন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছেন বলেও জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল আহমেদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবি মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেছেন।
মেহেদী হাসান সৈকত/এএমকে
