বিজ্ঞাপন

শিক্ষা সচিবকে ডিও লেটার

নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে প্রতিমন্ত্রীর আপত্তি

নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে প্রতিমন্ত্রীর আপত্তি

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ মোকামতলা) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার নামে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে এবং স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তার নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠিয়ে আসছেন। বিষয়টি তার কাছে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখাই অধিকতর সমীচীন।

ডিও পত্রে তিনি আরও বলেন, শিবগঞ্জ মোকামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন এবং সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)।

পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন করা না হয়। একইসঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জানা গেছে, ডিও পত্রটির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবরও প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কাকতালীয়ভাবে আমার দুই ছেলের সঙ্গে যে ইউনিয়নের নাম মিলে গেছে। আর আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে যেটা আলোচনা হচ্ছে ​তাই ওই দুইটা আমি ও সংশোধন করতেছি। তবে আমার ১০টা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমার নামে আছে। যেগুলো ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত, ​এর বাইরে আমার নামে যাতে নতুন কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না করে এ মর্মে আমি অলরেডি ডিও লেটার সচিবকে ১ তারিখে দিয়েছি।

​তিনি আরও বলেন, আমি অলরেডি ডিসি সাহেবকে চিঠি দিয়ে বলেছি, কাকতালীয়ভাবে আমার দুই ছেলের সঙ্গে যে ইউনিয়নের নাম মিলে গেছে, যেটা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বিধিমোতাবেক ওই দুটি নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের জন্য আমি অলরেডি ওনাকে ডিও দিয়েছি।

আব্দুল মোমিন/এএমকে