বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে নেপালি পর্যটকের সঙ্গে সিএনজি চালকের অসদাচরণ

চট্টগ্রামে নেপালি পর্যটকের সঙ্গে সিএনজি চালকের অসদাচরণ

নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা নিয়ে সাইকেল চালিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসা নেপালি তরুণ বিশ্বাস রয়ের (২৫) সঙ্গে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক সিএনজিচালকের অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। কেরানীহাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেপালের ইলাম জেলার বাসিন্দা বিশ্বাস রয় গত ১৮ মে নিজ দেশ থেকে সাইকেল ভ্রমণ শুরু করেন। ভারতের শিলিগুঁড়ি হয়ে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ১ মাসের ভিসা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে তরুণ সমাজকে মাদক ও নেশার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করছেন তিনি।

সম্প্রতি সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকা অতিক্রম করার সময় এক সিএনজিচালকের ক্ষোভের মুখে পড়েন এই নেপালি পর্যটক। ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও বিশ্বাস রয় নিজেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সাইকেল আরোহী বিশ্বাসের সঙ্গে এক সিএনজিচালকে অত্যন্ত উত্তেজিত ভঙ্গিতে আঙুল উঁচিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই তা ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। সেখানে একজন বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। অনেকেই অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাইফ উদ্দিন নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, 'যে তরুণ ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আমাদের দেশে এসেছে, তার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

কেরানীহাট বাজারের ব্যবসায়ী লোকমান বলেন, 'আমরা সাধারণত মানুষ দেখলে এগিয়ে যাই, সাহায্য করার চেষ্টা করি। সেখানে রাস্তার মাঝে একজন বিদেশি মেহমানের সঙ্গে এভাবে আঙুল উঁচিয়ে ঝগড়া করাটা খুবই লজ্জাজনক। একজন সিএনজিচালকের এই অসভ্যতার জন্য পুরো এলাকার মানুষের মাথা নিচু হয়ে গেছে।'

কলেজশিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, 'নেপাল থেকে ছেলেটি এত সুন্দর একটা বার্তা নিয়ে আমাদের দেশে এসেছে। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব ছিল। একজন মানুষের খারাপ আচরণের দায় পুরো দেশের ওপর বর্তায় না ঠিকই, তবে এই চালকের দ্রুত শাস্তি হওয়া দরকার যাতে বাইরে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি আর নষ্ট না হয়।'

তবে এই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিয়ে নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাই জানিয়েছেন বিশ্বাস রয়। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক। এখানে আসার পর অনেকেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। পুলিশ সদস্যরাও আমার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতে বলেছেন।'

বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও মানুষের ভালোবাসা তার এই ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, 'ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত সিএনজিচালককে শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।'

আতিকুল হা-মীম/এমটিআই

বিজ্ঞাপন