মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চাঁপ গ্রামের দুবাই প্রবাসী জাফর মুন্সীর বিয়ের নির্ধারিত তারিখ ছিল গতকাল শুক্রবার (১৯ ) জুন। তারিখ অনুযায়ী দাওয়াত দেওয়ার কাজও শেষ করে ফেলেছিল তার পরিবার। সদর উপজেলার পানহাটা গ্রামের এক মেয়ের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ের দিন ধার্য হয় তার।
প্রায় দেড় মাস আগে তার বিয়ে রেজিস্ট্রি হলেও শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কনের বাড়ি হতে মেয়েকে তুলে আনার কথা ছিল।
বিয়ের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে জাফর মোটরসাইকেলে করে বোন খাদিজা ও আরেক বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফারজানা আক্তার ও ভাইয়ের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে বিয়ের মার্কেট করতে যাচ্ছিলেন মুন্সীগঞ্জ সদরে। পথে সদর উপজেলার মদিনাবাজার এলাকায় একটি অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষ হলে শিশুসহ ৪ জনই গুরুতর আহত হন।
পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার ১৬ জুন রাত ১১ টার দিকে ঢাকার শ্যামলী এলাকায় একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় জাফরের বোন খাদিজার।
এই ঘটনায় আহত জাফর মুমূর্ষ অবস্থায় লাইভ সাপোর্টে থাকার পর গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এতে শেরওয়ানির বদলে এখন কাফন পরিয়ে আজ শনিবার তাকে চিরবিদায় নিতে হচ্ছে।
জাফর উপজেলার চাপ গ্রামের আবু তাহের মুন্সীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাই প্রবাসী ছিলেন। পরে বিগত এক বছর আগে তিনি দুবাই থেকে দেশে চলে আসেন। বিয়ে করে পুনরায় দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই জামাল মুন্সী।
জামাল মুন্সী বলেন, মোটরসাইকেলে চড়ে মার্কেট করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাফরের ভাতিজা সহ চারজনে গুরুতর আহত হয়। শিশুটির সহ চারজনেরই পা ভেঙে যায়। এ ছাড়া একাধিক স্থানে তারা গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় প্রথমে আমার চাচাতো বোন খাদিজা মারা যায়। আজ চাচাতো ভাই জাফর মারা গেছে। আমরা মরদেহ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। এখানে ময়নাতদন্তের কাজ চলছে পরে আমাদের মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এখানের কাজ শেষে আমরা মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরব। শনিবার তাকে দাফন করব।
ব. ম শামীম/এমটিআই
