বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান করেছিল, নিজেদের ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন করতে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে মুক্ত এবং স্বাধীন করেছিল। ভোটাধিকারের জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করে জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়ন করেছিল। এ দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য যদি আরেকটি বিপ্লবের প্রয়োজন হয়, আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হয় সেই অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকবেন তো? আমরা সরকারকে বলি, আপনার সুমতি হোক।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, খবরদার জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যদি খেলবার চেষ্টা করেন, এটা সেই আগুন, যে আগুনে আইয়ুব খান পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। এটা সেই আগুন যে আগুনে শেখ হাসিনা তার গদিসহ জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে গেছেন। এই আগুনে হাত দিলে তারেক জিয়া এবং বিএনপি সরকার তোমরাও জ্বলে-পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যাবে। জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন ক্ষ্যান্ত হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ আর গণভোটের সাথে বিএনপি অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তারা তলে তলে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। গণভোটে ‘না’ এর পক্ষেই তারা প্রচারণা চালিয়েছে। দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং নাগরিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং প্রতিনিধিত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতায় গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করা এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই রায়কে উপেক্ষা করে কেবল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল হবে। জনগণের ভোটে প্রদত্ত ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
মোহাম্মদ মিলন/আরএআর
